ExamBD

লেখাপড়া: বিরাম চিহ্নের ব্যবহার (Punctuation


সংজ্ঞা : বাক্য তার অংশগুলোর উচ্চারণ ও সঠিক অর্থ সহজভাবে বোঝার জন্য যে সমস্ত চিহ্নের ব্যবহার হয়, সেগুলোকে বিরাম চিহ্ন বলে। বিরাম চিহ্নের অন্য নাম হলো যতি চিহ্ন।

প্রকৃতি : আমরা অবিশ্রান্তভাবে কথা বলতে পারি না। সে জন্য কথার ফাঁকে ফাঁকে আমাদের একটু বিরাম বা বিরতি দিতে হয়। এই বিরতিগুলোর রয়েছে নির্দিষ্ট চিহ্ন। এই চিহ্নগুলো আমাদের বক্তব্য বা লেখার ভাষাকে বোধগম্য, সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্ত করে তোলে।

বিরাম চিহ্নের প্রকারভেদ : বাংলা ভাষায় ব্যবহূত বিরাম চিহ্নগুলোকে তার ভাব বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি ১২টি ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। নিচে তা ছকের সাহায্যে দেখানো হলো :

  কমা বা পাদচ্ছেদ (,)-এর প্রয়োগ :

১.

সাধারণত, বাক্যের যে স্থানে বিরতি হয়, সেখানে কমা (,) বসে। কমা হলো একটি বিন্দুর মতো বিশ্রাম, সামান্য দম নেওয়ার মতো ব্যাপার। তারপর আবার বক্তব্য শুরু করতে হয়। মনে রাখতে হবে যে, কমার সঙ্গে বক্তব্য কখনো শেষ হয় না। আরও মনে রাখতে হবে যে, বিশেষ্য, বিশেষণ এবং ক্রিয়াপদ একত্রে বসলে প্রত্যেকটির পরে কমা (,) বসে। যেমন- শাহীন, শায়মা ও নয়ন ভাত খাচ্ছে।

২.

বাক্যের মধ্যে যদি একটি বিশেষ্য পদকে ভালো করে বোঝানোর জন্য অন্য একটি বিশেষ্য পদ বসে, তাহলে পরের বিশেষ্য পদের আগে কমা বসে। যেমন- ঢাকা, বাংলাদেশের রাজধানী ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ স্থান।

৩.

বর্তমানে বাংলা ভাষায় সম্বোধনের পরে কমা (,) ব্যবহূত হয়। যেমন- সাব্বির, এদিকে এসো তো।

৪.

জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা (,) বসে। যেমন- যে ছেলেটি স্কুলে যাচ্ছিল, সে আমার বন্ধু।

৫.

উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্ববর্তী পদের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- মা বললেন, “খেতে এসো। ”

৬.

মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে (,) কমা বসে। যেমন- আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ, রবিবার, ১৪২২ সাল।

৭.

নামের পরে ডিগ্রি-সূচক পরিচয় দিতে কমা (,) ব্যবহূত হয়। যেমন- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। এমএ,পি-এইচডি।

৮.

ঠিকানা লিখতে কমা (,) ব্যবহার করতে হয়। যেমন- ১৯০, ওয়্যারলেস রেলগেট, মগবাজার, ঢাকা।

৯.

বাক্যের যেখানে সামান্যমাত্র বিরামের প্রয়োজন হয় সেখানে কমা (,) বসে। যেমন— তোমরা তোমরা, আমরা আমরা। - প্রমথ চৌধুরী

  খাদার জন্য যে তর্ক করে, তার মূল্য খুব কম। - ডা. লুত্ফর রহমান

  সেমিকোলন বা অর্ধ্বপাদচ্ছেদ (;)-এর প্রয়োগ :

  সেমিকোলনে (;) কমার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেশি সময় থামতে হয়। দুটি বাক্যের মধ্যে অর্থের কাছে সম্বন্ধ থাকলে তা সেমিকোলন (;) দিয়ে পৃথক করা হয়। যেমন- সায়মা খুব শান্ত; শাহীন অত্যন্ত দুরন্ত।

৩.

দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ (। )-এর প্রয়োগ :

  যেখানে বাক্য সম্পূর্ণভাবে শেষ হবে সেখানে দাঁড়ি চিহ্ন (। ) বসবে। এ জন্য দাঁড়িকে পূর্ণচ্ছেদ বলে। যেমন- শাহীন স্কুলে গিয়েছে। সায়মা ভাত খেয়েছে।

৪.

প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?)-এর প্রয়োগ :

  প্রশ্ন, সন্দেহ ও ব্যঙ্গ বোঝানোর জন্য প্রশ্ন চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যেমন- তোমার বাড়ি কোথায়? তার মতো ভালো লোক আর আছে নাকি?

৫.

বিস্ময় চিহ্ন (!)-এর প্রয়োগ :

  আনন্দ, বিস্ময়, ভয়, ঘৃণা, শোক প্রভৃতি ভাব প্রকাশক অব্যয় পদের পরে বিস্ময় চিহ্ন বসে। যেমন- ছি! ছি! তুমি মিথ্যা বললে। প্রভু! আমায় রক্ষা কর।

৬.

কোলন (:)-এর প্রয়োগ :

  একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহূত হয়। যেমন- আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম : আগামী মাসেই আবার বসব।

৭.

কোলন ড্যাস (:-)-এর প্রয়োগ :

  পূর্বোক্ত কোনো বিষয়কে কোনো কিছুর উদাহরণ দিতে কোলন ড্যাস প্রয়োজন হয়। যথা : মহাসাগর পাঁচটি :- প্রশান্ত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর। মহাদেশ আটটি, যথা :- এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ,  উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ওশিয়ানিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা।

৮.

উদ্ধরণ চিহ্ন (“ ”)-এর প্রয়োগ :

  কারও কোনো বক্তব্য অবিকল উদ্ধৃত করার জন্য উদ্ধরণ চিহ্ন প্রয়োজন হয়। যেমন- প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে বললেন, “ভাই সব, আল্লাহর মেহেরবানিতে আপনাদের সব দুঃখ-দুর্দশা আমরা একত্রে সমাধান করব। ”

৯.

হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-)-এর প্রয়োগ :

  দুই বা অধিক পদকে সংযুক্ত করার জন্য হাইফেন প্রয়োজন। সাধারণত একার্থবোধক শব্দ ও সমাসব্ধ পদে এর ব্যবহার হয়। যেমন : মাতা-পিতা। সুখ-দুঃখ।

১০.

লোপ চিহ্ন (’) বা ইলেক-এর প্রয়োগ :

  পদের মধ্যস্থ কোনো অক্ষর লুপ্ত বোঝালে অক্ষরটির স্থলে (’) লোপ চিহ্ন বসে। যেমন- খা’ব। এখানে (খাইব) ই লোপ হয়েছে। হ’তে (হইতে), যা’ব (যাইব) প্রভৃতি। লোপচিহ্নের আর এক নাম ‘উর্ধ্ব কমা’। এ কমার ব্যবহার ধীরে-ধীরে লোপ পেয়ে যাচ্ছে।

১১.

ড্যাস চিহ্ন (—) এর প্রয়োগ :

  যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাস চিহ্ন ((—) ব্যবহূত হয়। যেমন- বিপন্নদের পাশে দাঁড়াও—তাহলে আল্লাহ তোমাকে সহায় হবেন।

১২.

বন্ধনী ( )- এর প্রয়োগ :

  বাক্যের পদ ও পদসমষ্টির ব্যাখ্যার জন্য সাধারণত বন্ধনী ব্যবহার হয়। যেমন— তিনি বিভিন্ন বিষয়ে (বাংলা, অঙ্ক, অর্থনীতি, ইংরেজি) পারদর্শী। এছাড়া ব্যাকরণ ও অভিধানে আরও কিছু চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যেমন—

  ক. পূর্ববর্তী প্রকাশক চিহ্ন < : এ চিহ্নের জন্য বিরামের প্রয়োজন নেই।

  খ. পূর্ববর্তীরূপ প্রকাশক চিহ্ন > : এ চিহ্নের জন্য বিরামের প্রয়োজন নেই।

  গ. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন ( : ধাতু (ক্রিয়ামূল) বোঝানোর জন্য ( চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

  ঘ. সমতাদ্যোতক চিহ্ন = : সমতা বোঝাতে এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এ চিহ্নের জন্য বিরামের প্রয়োজন নেই।

SUBSCRIBE TO OUR NEWSLETTER

Seorang Blogger pemula yang sedang belajar

0 Response to "লেখাপড়া: বিরাম চিহ্নের ব্যবহার (Punctuation"

Post a comment

চাকরির প্রস্তুতি সহায়ক বই
চাকরির খবর
বিসিএস রিভিউ

View All

সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর

View All